দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানি বিষয়ে নতুন অস্থায়ী নীতিমালা প্রকাশ করেছে চীন। এতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি), স্মার্টফোন ও যুদ্ধবিমানসহ অনেক উচ্চ প্রযুক্তি পণ্যে ব্যবহৃত অতিপ্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর হয়েছে বলে ধারণা অনেকের। খবর এপি।
চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, চীন থেকে দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানিকারক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন খনিজের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুসরণ করে সুযোগ পাবে। এ-সংক্রান্ত লেনদেনের জন্য কোম্পানিগুলোকে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে।
আরো বলা হচ্ছে, যেকোনো ধরনের দুষ্প্রাপ্য খনিজ উত্তোলন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ বা রফতানির সব সংখ্যা এবং পরিমাণ সঠিকভাবে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে হবে। এ নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং পূর্বনির্ধারিত কোটা কমানো হতে পারে।
গত শুক্রবার ঘোষিত এ নীতিমালা চীনে উত্তোলিত ও প্রক্রিয়াজাতের জন্য দেশটিতে পাঠানো দুষ্প্রাপ্য খনিজের ওপর প্রযোজ্য হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন নীতিমালায় রফতানিকারক কোম্পানির লাইসেন্সিংয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, খনি, রফতানি ও প্রক্রিয়াকরণে কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এছাড়া দুষ্প্রাপ্য খনিজ শিল্পের জন্য পরিবেশগত মান আরো কঠোর করেছে চীন।
যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজন অনুযায়ী খনিজ রফতানির অনুমোদন বাড়াতে বা কমাতে পারবে চীন। এছাড়া খনিজ উত্তোলন ও রফতানির কোটা বা নির্দিষ্ট দুষ্প্রাপ্য খনিজ উপাদানগুলো স্পষ্ট করা হয়নি, যা নীতিমালা প্রয়োগের সীমা অস্পষ্ট করে তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এপ্রিলে চীন থেকে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ১৪৫ শতাংশে উন্নীত করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় দুষ্প্রাপ্য খনিজের সরবরাহ কঠিন করে তোলে বেইজিং। এ সময় আগে থেকে রফতানি নিয়ন্ত্রণের তালিকায় থাকা ১০ দুষ্প্রাপ্য খনিজের সঙ্গে নতুন সাতটি যোগ করা হয়।
এ বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের দুষ্প্রাপ্য খনিজের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলোয় আশঙ্কা বেড়ে যায়। এমনকি কারখানা বন্ধের খবরও পাওয়া যায়, যা অচিরেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এরপর কম্পিউটার চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার ও জেট ইঞ্জিনে মার্কিন ছাড়ের ঘোষণা এলে জুনে দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানির অনুমোদন দ্রুত করে চীন। ফলে জুলাই-আগস্টে চীন থেকে দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।
গত কয়েক দশকে দুষ্প্রাপ্য খনিজ প্রক্রিয়াকরণে আধিপত্য গড়ে তুলেছে চীন। এখন দেশটি প্রায় ৯০ শতাংশ দুষ্প্রাপ্য খনিজ সরবরাহ করে, যদিও তারা উত্তোলন করে ৭০ শতাংশ।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত দুষ্প্রাপ্য খনিজের ৭০ শতাংশের উৎস ছিল চীন। এরপর মালয়েশিয়া, জাপান ও এস্তোনিয়া যথাক্রমে পেয়েছে ১৩, ৬ ও ৫ শতাংশ।